ফাইল ছবি
মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শক্তিশালী এ ভূ-কম্পনের পর ৭৪৬টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।
পানামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক নেস্তর লুকে সংবাদমাধ্যম লা প্রেসাকে বলেন, তাত্ত্বিক ধারণা ও অতীতের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত পরাঘাত হতে পারে।
তিনি জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটারেরও কম গভীরে। ভূমিকম্পের ফলে নির্গত শক্তির কারণে ভূত্বকের বিভিন্ন অংশ এখনো নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছে। তবে রেকর্ড অনুযায়ী, পরাঘাতগুলোর মাত্রা ধীরে ধীরে কমছে।
নেস্তর লুকে বলেন, ভূগর্ভস্থ চ্যুতির (ফল্ট) নড়াচড়ার কারণে উপকূলীয় ভূমি উঁচু হয়ে যেতে পারে কিংবা নিচে নেমে যেতে পারে। এতে ভূমির আকৃতি ও উপকূলের স্বাভাবিক অবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে।
ভূতত্ত্ববিদেরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরীক্ষা করে দেখবেন, চ্যুতির নড়াচড়ার কারণেই এসব পরিবর্তন ঘটেছে কি না।
ভূমিকম্পের পর কয়েকটি এলাকায় পানির রং ধূসর হয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গবেষকদের ধারণা, ভূমিকম্পের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি এমন কিছু খনিজ পদার্থের সংস্পর্শে আসতে পারে, যেগুলো পানির রঙে পরিবর্তন ঘটায়।
তবে এর প্রকৃত কারণ জানতে পানির রাসায়নিক পরীক্ষা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন লুকে।
পানামার দক্ষিণাঞ্চলীয় লস সান্তোস প্রদেশের ইসলা কানাস দ্বীপের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর দ্বীপটিকে দুই ভাগ হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।
ভূতত্ত্ববিদেরা পরীক্ষা করে দেখবেন, দ্বীপজুড়ে কোনো ফাটল তৈরি হয়েছে কি না এবং সেই ফাটল সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে কি না। এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে ভূগর্ভস্থ চ্যুতির নড়াচড়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
তবে দ্বীপটি সত্যিই দুই ভাগ হয়ে গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় পানামার ভূবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট দেশটির ভূকম্পন পর্যবেক্ষণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণব্যবস্থা জোরদার করতে প্রায় ১৫০টি যন্ত্রের প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, দেশজুড়ে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ৭০০টি সেন্সর লাগতে পারে।
ভূমিকম্পের পর পানামার বিভিন্ন এলাকায় কী ধরনের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটেছে, তা নির্ধারণে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।
