সংগৃহীত
রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারিয়ে রেকর্ডবইয়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গড়েছে এমন এক রেকর্ড যা ক্রিকেট ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি।
এই ম্যাচে ভারত আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৫০ রানের। ক্যারিবীয়রা সেটাই কি-না তাড়া করে ফেলল ৯ বল হাতে রেখে!
ভারতের ইনিংসের নায়ক ছিলেন সাঞ্জু স্যামসন। তিনি ৪১ বলে ৮২ রান করেন। ইশান কিশান ২২ বলে করেন ৪৩ রান। শেষ দিকে ঝড় তোলেন শ্রেয়াস আইয়ার আর তিলক ভার্মা। শ্রেয়াস ১৮ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলেন। তিলক ১৮ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই চার ব্যাটারের কাজেই ভারত বড় পুঁজি পায়।
রান তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতেই চাপে পড়ে। পেসার মায়াঙ্ক যাদব পরপর দুই বলে দুটি উইকেট নেন। কামিল পুরান মাত্র ৫ রানে আউট হন। পরের বলেই ফেরেন হেটমায়ার। তখন ভারতের জয়কেই মনে হচ্ছিল ম্যাচের একমাত্র নিয়তি।
তবে অধিনায়ক শাই হোপ ঘাবড়াননি। তিনি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। নিয়মিত বাউন্ডারি মেরে তিনি রানের গতি ধরে রাখেন। রভম্যান পাওয়েল কয়েকটি চার-ছক্কা মারেন। কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
এরপর হোপের সঙ্গে জুটি বাঁধেন শেরফান রাদারফোর্ড। দুজনে মিলে যোগ করেন ৮৪ রান। এই জুটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
শেষ পাঁচ ওভারে জিততে দরকার ছিল ৬৩ রান। হাতে ছিল ছয় উইকেট। এই সময় মাঠে নামেন রোমারিও শেফার্ড। তার আসায় দলের মারার শক্তি আরও বাড়ে। ভারতের বোলাররা শেষ দিকের ঝড় থামাতে পারেননি।
শেষ তিন ওভারে প্রয়োজনটা নেমে এসেছিল ২৭ রানে, ঠিক তখন ১৮তম ওভার করতে আসা আর্শদীপ সিং দেন ১৭ রান। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় গতি পেয়ে যায়। পরের ওভারে হোপ দুটি ছক্কা হাঁকান। এভাবেই তিনি দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
হোপ শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ১০২ রান করে অপরাজিত থাকেন। টি-টোয়েন্টিতে এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে বড় সফল রান তাড়ার কীর্তি।
তবে বড় কীর্তিটা গড়া হয়েছে অন্য জায়গায়। প্রতিপক্ষের মাঠে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড এতদিন ছিল ২৪৪; ২০১৮ সালে অকল্যান্ডে অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডের ছুঁড়ে দেওয়া এই এভারেস্টসম লক্ষ্য তাড়া করে ফেলেছিল সেদিন। ২৫০ রান তাড়া করে সে রেকর্ডটা গত রাতে দুইয়ে ঠেলে দিয়ে বিশ্বরেকর্ডটা গড়ে ফেলেছে উইন্ডিজ।
