- বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

| ফাল্গুন ৫ ১৪৩২ -

Tokyo Bangla News || টোকিও বাংলা নিউজ

সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:০৭, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায়। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। এ উপলক্ষে সংসদ ভবন এলাকায় দেখা যাচ্ছে ভিড়। একে একে সংসদ সদস্যরা আসছেন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলে বিএনপি ২০৯টি আসন এবং তার মিত্ররা পেয়েছে ৩টি আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হয়েছে ৬৮টি আসনে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং অন্য শরিকেরা আরও ৩টি আসন পেয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে। ৩০০ আসনের সংসদে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ১৫১টি আসনে জয় প্রয়োজন হয়।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, আজ সকাল ১০টায় শুরুতে বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন সিইসি। এরপর বিএনপি জোটের নির্বাচিত তিনজনকে শপথ পাঠ করানোর পর দুপুর ১২টায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন সিইসি। এরপর জামায়াতের জোটের শরিক দলগুলোর সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। এই সময় আরও এগিয়ে আনা হতে পারে। শপথ শেষে সংসদ ভবনের তৃতীয় তলায় রাখা শপথ বইয়ে সই করবেন সংসদ সদস্যরা। এরপর পরিচয়পত্রের জন্য ছবি, আঙুলের ছাপ, ডিজিটাল স্বাক্ষর করবেন তাঁরা। এ জন্য ১০টি বুথ রাখা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর জন্য সংসদ ভবনের নিচতলার শপথকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। সংসদ ভবনের নয়তলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সভাকক্ষও প্রস্তুত করা হয়েছে। শপথের কার্যক্রম শেষে বিএনপির সংসদীয় দল বৈঠক করবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা, উপনেতা, চিফ হুইপ নির্বাচন করা হতে পারে। একই সভায় আগামী জাতীয় সংসদের স্পিকার বাছাই করা হতে পারে; যা সংসদের প্রথম অধিবেশনে কণ্ঠভোটে পাস হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা নির্বাচনের পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হবে। এর ভিত্তিতে বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।

মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা প্রস্তুত করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে থাকবে আমন্ত্রিত অতিথিদের বসার চেয়ার। সংসদ ভবন এলাকায় সাজসজ্জা করা হয়েছে। রীতি অনুযায়ী, শপথ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য মূল ভবনে প্রবেশ করেন। তবে এবার নিরাপত্তার কারণে শুধু নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রবেশ করতে পারবেন। অবশ্য দু-একটি ব্যতিক্রম বিবেচনা করা হতে পারে।

বিগত জাতীয় সংসদগুলোর শপথ অনুষ্ঠানের দিন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যস্ত সময় কাটাতেন। সূত্র বলেছে, এবার সংসদের প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১৬৫ জন ছাড়া বাকি সবাইকে সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনে কয়েকজন বাদ পড়তে পারেন। অতীতে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানের সময় সংসদ সচিবালয় এলাকায় সংবাদমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে বাধা না থাকলেও এবার ব্যতিক্রম। সংসদ সচিবালয় বলেছে, বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। সেখান থেকে সাংবাদিকেরা তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে মন্ত্রিসভার শপথের সময় আমন্ত্রিত ও নির্ধারিত সাংবাদিকেরা প্রবেশ করতে পারবেন।

ত্রয়োদশ সংসদের এমপিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এই শপথেরও প্রস্তুতিও নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। তবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, দলটির মতে, বিদ্যমান সংবিধানে সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই। বিদ্যমান সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের শপথের বিষয়ে বলা আছে। সেখানে সংসদ সদস্যদের শপথের কথা আছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বিষয় নেই।

আজ ক্ষমতায় যাত্রা শুরু হচ্ছে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের। তাঁর নেতৃত্বে ছোট আকারের মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও এ বিষয়ে নিশ্চুপ বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা। মন্ত্রিসভায়