ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলাসহ ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে আদালত। এ মামলায় চার জনের যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ সকাল পৌনে ১১টা থেকে রায় ঘোষণা শুরু করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের এ দিন ধার্য করে দেন হাইকোর্ট। গত ২৮ জুলাই আপিল শুনানি শুরু হয়েছিল।
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল নুসরাত মাদরাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে পরিকল্পিতভাবে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। ওই ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ওই বছরের ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পরে ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য মামলার নথি পাঠানো হয় হাইকোর্টে। সেইসঙ্গে আপিল ও জেল আপিল করেন আসামিরা।
এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।
