- বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬

| শ্রাবণ ১৩ ১৪৩৩ -

Tokyo Bangla News || টোকিও বাংলা নিউজ

কৃষিঋণ বিতরণে রেকর্ড গড়ল ব্যাংকগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:০৯, ২৮ জুলাই ২০২৬

কৃষিঋণ বিতরণে রেকর্ড গড়ল ব্যাংকগুলো

কৃষিতে ঋণ বিতরণে নতুন রেকর্ড গড়েছে দেশের ব্যাংকগুলো। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে কৃষি ও পল্লি খাতে বিতরণ হয়েছে ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। এটি নির্ধারিত ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা বা ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি উৎপাদন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে এটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের ৩৮ হাজার কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যেই এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থবছর শেষে সেটিও অতিক্রম করেছে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আর মোট শ্রমশক্তির ৪৬ শতাংশ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।

এই বিষয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি কৃষিঋণ বিতরণ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক অগ্রগতি। এটি প্রমাণ করে, একদিকে কৃষকের ঋণচাহিদা ছিল, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের আগ্রহও বেড়েছে। সময়মতো এ অর্থায়ন কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, প্রতিবছর দেশের চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য আমদানি করতে হয়। দেশীয় উৎপাদন বাড়লে আমদানিনির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ের পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।

বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর মোট নিট ঋণের কমপক্ষে ২.৫ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি পশুপালন খাতে ঋণের বরাদ্দ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ এবং সেচ ও কৃষিযন্ত্র খাতেও পৃথক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের ক্ষেত্রে সিআইবি সার্ভিস চার্জ মওকুফ করায় ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণ নেওয়া সহজ হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সময়মতো কৃষকের হাতে ঋণ পৌঁছালে শুধু কৃষি উৎপাদন নয়, গ্রামীণ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বীজ, সার, কৃষিযন্ত্র, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিপণনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহও বৃদ্ধি পায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণ আরও সহজ ও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিং, সাব-ব্রাঞ্চ, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, এরিয়া অ্যাপ্রোচ এবং প্রয়োজনে এমএফআই-লিংকেজের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে আরও বেশি কৃষিঋণ বিতরণে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

আরো পড়ুন