রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে সাংবাদিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
তারা জানায়, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছি যে, গতকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে বাংলানিউজের এক সাংবাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা নায়েম উদ্দীনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী আমলের পুরোনো কায়দায় এই পুলিশি হামলা ও হেনস্তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক স্তম্ভ। দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিককে মারধর ও হেনস্তা করা গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য বিপজ্জনক এবং একই সঙ্গে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপরও সরাসরি আঘাত। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁর জন্য রয়েছে বিদ্যমান বিচারব্যবস্থা। কিন্তু সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই নিরস্ত্র ব্যক্তিকে মারধর ও হেনস্তা করা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন। অথচ নাগরিক অধিকারকে গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষার্থীদের রাতে চলাচল নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপ আমরা লক্ষ করছি। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশেই মোরাল পুলিশিংয়ের ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা, যা জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানোত্তর নতুন বাংলাদেশে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এই ধরনের মোরাল পুলিশিংয়ের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি বিএনপি সরকারের প্রতি এই ধরনের মোরাল পুলিশিং কার্যক্রম বন্ধ এবং উক্ত ঘটনায় জড়িত পুলিশদের অতিদ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ‘এ ছাড়া আরও উদ্বেগের বিষয়, অভ্যুত্থানোত্তর দেড় বছর পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে আমরা কোনো ধরনের কাঙ্ক্ষিত দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখছি না; বরং তারা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী আমলের পুরোনো কায়দায় চালিয়ে যাচ্ছে নানা ধরনের নাগরিক হয়রানি। অথচ জুলাই-পূর্ববর্তী সময়ে পুলিশ বাহিনীকে ঘিরে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক নিপীড়নের নানা অভিযোগ ছিল। তাই অভ্যুত্থানোত্তর অন্যতম জনআকাঙ্ক্ষা ছিল পুলিশ সংস্কার। পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত তার সুস্পষ্ট ও দৃশ্যমান অগ্রগতি আমরা দেখতে পাইনি; ফলে এই ধরনের পুলিশি আচরণ আমরা বারবার প্রত্যক্ষ করছি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রতি পুলিশ সংস্কারে আরও সুস্পষ্ট, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।’
