থাইল্যান্ডে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত এবং আরও কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানী ব্যাংককের উত্তরে নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশে একটি নির্মাণাধীন ক্রেন ভেঙে চলন্ত একটি ট্রেনের বগির ওপর পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময় ব্যাংকক থেকে ২৩০ কিলোমিটার (১৪৩ মাইল) উত্তর-পূর্বে নাখোন রাতচাসিমার শিখিও জেলায় উবন রাতচাথানি প্রদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল ট্রেনটি। এই ট্রেনে ১৯৫ জন যাত্রী ও কর্মী ছিলেন। হঠাৎ একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পে কাজ করা নির্মাণ ক্রেন ভেঙে পড়লে চলন্ত ট্রেনটির ওপর আঘাত হানে। এতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং অল্প সময়ের জন্য আগুন ধরে যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে পরিণত ট্রেনের বগি থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও তদন্তাধীন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনের আসন বিন্যাস অনুযায়ী দুর্ঘটনার সময় প্রায় ২০০ জন যাত্রী ও কর্মী ছিল। এই দুর্ঘটনা মুহূর্তেই বিশাল আতঙ্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা উদ্ধারকারীদের সঙ্গে কাজ করে আহতদের উদ্ধার এবং ট্রেন থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করছে।
থাই পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত নির্মাণ ক্রেনটি হঠাৎ ভেঙে পড়ার কারণে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে ধ্বংসস্তূপে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পুলিশ এবং রেলওয়ে কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার স্থান পরিদর্শন করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আহতদের তত্ত্বাবধানের জন্য হাসপাতালে বিশেষ মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ে ও উদ্ধারকাজে যুক্ত কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার সময়কার ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করছেন।
রয়টার্স ও বিবিসির বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণ নির্মাণ ক্রেনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নিরাপত্তা উপকরণের অভাব বা ত্রুটিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে হতে পারে। তবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এই ধরনের দুর্ঘটনা নিয়ে থাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং স্থানীয় জনগণ গভীর শোক প্রকাশ করেছে। থাইল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
