চীনা ও জাপানি কূটনৈতিক উত্তেজনার জেরে চীনে জাপানি সাকে (ঐতিহ্যবাহী পানীয়) এবং খাদ্যপণ্য রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। গত নভেম্বরে তাইওয়ান পরিস্থিতি নিয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার মূল কারণ:
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তাইওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে জাপান পদক্ষেপ নেবে। এর প্রতিবাদে চীন জাপানি পণ্যের কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বা শুল্কায়ন প্রক্রিয়া ধীর করে দিয়েছে। জাপানি দূতাবাস এই সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার বিস্তার:
তাকাইচির মন্তব্যের পর চীন জাপানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- জাপান ভ্রমণে নাগরিকদের নিরুৎসাহিত করা।
- জাপানি সামুদ্রিক খাবার আমদানিতে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা।
- বেসামরিক ও সামরিক—উভয় কাজে ব্যবহৃত হয় এমন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (রেয়ার আর্থ) রপ্তানিতে কড়াকড়ি।
সাকে ও খাদ্যপণ্যে প্রভাব:
২০২৪ সালে চীনে জাপানি সাকে রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১১.৬ বিলিয়ন ইয়েন (৭৪ মিলিয়ন ডলার), যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। বর্তমানে তিয়ানজিন এবং শেনজেনের মতো প্রধান বন্দরগুলোতে সাকে খালাস করতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় (কয়েক সপ্তাহ থেকে এক মাস) লাগছে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে জাপানের প্রতীকী পণ্যের ওপর চীনের 'হয়রানি' হিসেবে দেখছেন।
কঠোর তল্লাশি:
চীনা কাস্টমস এখন পণ্যের পরিবহণ রুটের বিস্তারিত তথ্য চাইছে। বিশেষ করে পণ্যগুলো ফুকুশিমা, মিয়াগি বা টোকিওর মতো অঞ্চল দিয়ে এসেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা পরমাণু বিপর্যয়ের পর থেকেই জাপানের ১০টি অঞ্চলের খাবারের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
অর্থনৈতিক সমীকরণ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের নিজস্ব অর্থনীতি বর্তমানে আবাসন সংকটের কারণে ধীরগতিতে চলছে। তাই বেইজিং এমন সব জাপানি পণ্যের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে যাতে চীনের নিজস্ব অর্থনীতির কোনো ক্ষতি না হয়। তবে অনেক জাপানি কোম্পানি অভিযোগ করেছে যে, চীনা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সাথে তাদের যৌথ প্রকল্পগুলো স্থগিত বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১০ সালেও সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিরোধের সময় চীন একইভাবে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন জাপানি পণ্যের শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছিল।
