চীন বুধবার ঘোষণা করেছে যে, ১ জানুয়ারি থেকে ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে আসা গরুর মাংসের আমদানির ওপর ৫৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। মূলত আমদানির পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা (কোটা) অতিক্রম করলেই এই বাড়তি শুল্ক কার্যকর হবে।
প্রেক্ষাপট ও কারণ: চীনের অর্থনীতির গতি ধীর হওয়ায় এবং বাজারে মাংসের অতিরিক্ত যোগান থাকায় গত কয়েক বছর ধরে সেখানে গরুর মাংসের দাম কমছে। একই সময়ে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো থেকে আমদানির পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্তে দেখা গেছে এই অতিরিক্ত আমদানির ফলে চীনের দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাজা, হিমায়িত, হাড়সহ এবং হাড়হীন সব ধরনের গরুর মাংসই এই তদন্তের আওতায় ছিল।
শুল্কের সময়সীমা ও নিয়ম:
-
এই অতিরিক্ত শুল্ক আগামী তিন বছর অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
-
মন্ত্রণালয় এই শুল্ককে "সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা" (Safeguards) হিসেবে অভিহিত করেছে এবং জানিয়েছে যে সময়ের সাথে সাথে এটি কিছুটা শিথিল করা হবে।
-
প্রতিটি দেশের জন্য বার্ষিক আমদানির একটি সীমা বা কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যদি আমদানি এই সীমা ছাড়িয়ে যায়, তবেই ৫৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে।
দেশভিত্তিক কোটা (২০২৬ সালের জন্য):
-
ব্রাজিল: ১১ লক্ষ টন।
-
আর্জেন্টিনা: প্রায় ৫.৫ লক্ষ টন।
-
অস্ট্রেলিয়া: প্রায় ২ লক্ষ টন।
-
যুক্তরাষ্ট্র: ১.৬৪ লক্ষ টন।
অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত: চীন সরকার জানিয়েছে, তারা অস্ট্রেলিয়ার সাথে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) গরুর মাংস সংশ্লিষ্ট অংশটি সাময়িকভাবে স্থগিত করছে।
সরকারের বক্তব্য: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, "আমদানিকৃত গরুর মাংসের ওপর এই সুরক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো দেশীয় শিল্পকে সাময়িক সংকট কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করা, সাধারণ বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করা নয়।"
© 2026 AFP
