- সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬

| পৌষ ২৯ ১৪৩২ -

Tokyo Bangla News || টোকিও বাংলা নিউজ

জোটের স্থিতিশীলতায় আগামী মাসেই আগাম নির্বাচন চান তাকাইচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:১৪, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

জোটের স্থিতিশীলতায় আগামী মাসেই আগাম নির্বাচন চান তাকাইচি

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাঁর ক্ষমতাসীন জোটের অবস্থান সুসংহত করতে আগামী মাসের শুরুতেই সংসদ ভেঙে দিয়ে একটি আগাম (snap) নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছেন। অজ্ঞাত সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জাপানি সংবাদমাধ্যম ইয়োমিউরি শিমবুন এবং মাইনিচি শিমবুন এই চাঞ্চল্যকর খবরটি জানিয়েছে। 

সম্ভাব্য সময়সূচী
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকাইচি আগামী ২৭ জানুয়ারি সংসদ ভেঙে দিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার কথা ভাবছেন। বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে ৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষণার মাধ্যমে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে। উল্লেখ্য যে, আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে জাপানি পার্লামেন্টের নিয়মিত অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। 

জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানোর কৌশল
২০২৫ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তাকাইচির মন্ত্রিসভার জনপ্রিয়তা ঊর্ধ্বমুখী। সর্বশেষ জরিপগুলোতে তাঁর প্রতি জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশ সমর্থন দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি তাঁর দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (LDP) এবং জোটসঙ্গী 'জাপান ইনোভেশন পার্টি'র জন্য সংসদের নিম্নকক্ষে একটি বড় জয় নিশ্চিত করতে চান। বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোটটি সংসদের নিম্নকক্ষে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। 

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
তাকাইচির এই পদক্ষেপের পেছনে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং বড় ধরনের কূটনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে জাপানের বর্তমান সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত। নির্বাচনে বড় জয় তাকাইচিকে চীনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার এবং প্রতিরক্ষা নীতি শক্তিশালী করার আইনি ভিত্তি জোগাতে পারে। এছাড়া ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি সামাল দেওয়াও এই নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু হতে চলেছে। 

জোট গঠনের জটিলতা
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি চাইছেন ডেমোক্রেটিক পার্টি ফর দ্য পিপল (DPP)-কে তাঁর জোটে অন্তর্ভুক্ত করে সরকারকে আরও স্থিতিশীল করতে। তবে প্রার্থী সমন্বয় ও নীতিগত পার্থক্যের কারণে ডিপিপি নেতা ইউইচিরো তামাকি এখনও জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত। তবে নির্বাচনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তামাকি তাঁর দলের নেতাকর্মীদের "যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি" নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। 

যদিও কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন এটি একটি 'ট্রায়াল বেলুন' বা শরিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হতে পারে, তবুও জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আগাম নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে।