জাপানের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক লবি সেদেশের ক্রমবর্ধমান বিদেশি শ্রমিক ও বাসিন্দাদের স্বার্থে সরকারকে আরও জোরালো নেতৃত্ব দেওয়ার এবং একটি "মৌলিক আইন" প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে।
কেইদানরেন নামে পরিচিত 'জাপান বিজনেস ফেডারেশন' প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি স্থায়ী সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করে, গত নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কর্তৃক শুরু করা মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকটি ইতিবাচক হলেও তা যথেষ্ট নয়। সংস্থাটি চায় এই দপ্তর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে বিদেশি-সংক্রান্ত নীতিগুলোর সমন্বয় করবে।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত একগুচ্ছ প্রস্তাবে ফেডারেশনটি উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান ব্যবস্থায় মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কার্যকারিতার অভাব রয়েছে। তারা বলেছে, "এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন যেখানে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োগ করা সম্ভব।"
প্রধান দাবি ও পর্যবেক্ষণসমূহ:
-
বিশেষ মন্ত্রী নিয়োগ: বিদেশি-সংক্রান্ত নীতির জন্য একজন নিবেদিত মন্ত্রী নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার অন্য মন্ত্রণালয়গুলোকে তদন্ত বা নতুন নিয়ম তৈরির সুপারিশ করার ক্ষমতা থাকবে।
-
সামাজিক অন্তর্ভুক্তি: জাপানের জনসংখ্যা কমতে থাকায় ২০৩০ সালের পর বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা আরও বাড়বে। তাই বিদেশি কর্মী ও তাদের পরিবারের শিক্ষা ও সামাজিক সেবার মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সমাজে মিশিয়ে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
-
জনমনে উদ্বেগ: কিছু বিদেশির অবৈধ কর্মকাণ্ড এবং নিয়ম না মানার খবর সংবাদমাধ্যমে আসায় জাপানি নাগরিকদের মধ্যে এক ধরণের "অস্থিরতা ও অবিচারের বোধ" তৈরি হয়েছে। কেইদানরেন মনে করে, এটি নিরসনে সরকারের সক্রিয় হওয়া জরুরি।
-
দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: ফেডারেশনটি "বিদেশিদের কেবল গ্রহণ করা"র পরিবর্তে "কৌশলগতভাবে বিদেশি প্রতিভা আহরণ" করার ওপর জোর দিয়েছে। তারা চায় সরকার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করুক ঠিক কোন ধরণের দক্ষ জনশক্তি জাপান বিদেশ থেকে আনতে চায়।
পরিশেষে লবিটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, "এতদিন বিদেশি-সংক্রান্ত নীতিগুলো ছিল কেবল সমস্যা হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো। সামাজিক বিভাজন এড়াতে এখন থেকে একটি মৌলিক ভিশনের অধীনে সক্রিয়ভাবে নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন।"
