জাপানের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করতে পারে এমন 'দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য' (dual-use) পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির একদিন পরই, বুধবার চীন জাপানের সাথে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এবার সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক গ্যাস 'ডাইক্লোরোসিলিন' (dichlorosilane) আমদানির ওপর তদন্ত শুরু করেছে বেইজিং।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ শিল্পের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তথ্যে দেখা গেছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জাপান থেকে আমদানিকৃত ডাইক্লোরোসিলিনের দাম ৩১% হ্রাস পেয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, "জাপান থেকে আমদানিকৃত পণ্যের এই ডাম্পিং আমাদের দেশীয় শিল্পের উৎপাদন ও কার্যক্রমের ক্ষতি করেছে।"
এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো যখন চীনের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি (Sanae Takaichi)-এর ওপর বেইজিং ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ প্রকাশ করছে। তাকাইচি গত বছরের শেষের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়, তবে জাপানি সামরিক বাহিনী তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
মঙ্গলবার জাপানি আইনপ্রণেতা হেই সেকি (Hei Seki)-এর তাইওয়ান সফর উত্তেজনা আরও উসকে দেয়। তিনি তাইওয়ানকে একটি 'স্বাধীন দেশ' বলে অভিহিত করেন। চীন তাকে ইতিপূর্বেই নিষিদ্ধ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং তাকে "ক্ষুদ্র ভিলেন" বলে কটাক্ষ করেন।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মাসাকি কানাই চীনকে এই বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শুধুমাত্র জাপানকে লক্ষ্য করে নেওয়া এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রীতির পরিপন্থী এবং অগ্রহণযোগ্য। তবে জাপান এখনো কোনো পাল্টা ব্যবস্থার ঘোষণা দেয়নি।
এদিকে, জল্পনা চলছে যে চীন জাপানে রয়ার আর্থ (rare earths) বা দুর্লভ খনিজ রপ্তানিও সীমিত করতে পারে, যা প্রতিরক্ষা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের চুম্বক তৈরিতে অপরিহার্য।
জাপানের সাথে দ্বন্দ্বের মাঝেই চীন দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং (Lee Jae Myung) সম্প্রতি তার চার দিনের চীন সফর শেষ করেছেন, যেখানে দুই দেশ প্রযুক্তি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২৪টি রপ্তানি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এমনকি নববর্ষের ছুটিতে চীনা পর্যটকদের জন্য জাপানের চেয়ে দক্ষিণ কোরিয়া এখন প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
