- সোমবার ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

| মাঘ ২৬ ১৪৩২ -

Tokyo Bangla News || টোকিও বাংলা নিউজ

এ বছর রোজা ২৯ নাকি ৩০টি?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:১৬, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ বছর রোজা ২৯ নাকি ৩০টি?

জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনা অনুযায়ী, এ বছর মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র রমজান মাস শুরুর তারিখে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। খালি চোখে চাঁদ দেখা এবং গাণিতিক গণনার পার্থক্যের কারণে কোনো দেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি, আবার কোথাও ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হতে পারে।

আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ও এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান বলেছেন, পবিত্র রমজান শুরুর সময় নিয়ে মতভেদ থাকলেও মাস শেষে পবিত্র শাওয়ালের চাঁদ দেখা এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর শুরুর সময়টি অধিকাংশ মুসলিম দেশে একই, অর্থাৎ ২০ মার্চের দিকে হতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম ‘এমারাত আল ইউম’-এর বরাতে আল জারওয়ান জানান, মহাকাশ গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এবার রমজান মাস ২৯ দিনে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেই হিসেবে ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রোজা শুরু হতে পারে।

এ মাসে রোজার সর্বোচ্চ সময়সীমা হতে পারে ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট। আমিরাতের খোরফাক্কানে সবচেয়ে আগে এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় আল সিলা এলাকায় সবচেয়ে দেরিতে ইফতার হবে।

আল জারওয়ান উল্লেখ করেন, খ্রিষ্টীয় বর্ষপঞ্জির ২০২৬ সাল বা ১৪৪৭ হিজরি সালের পবিত্র রমজানের নতুন চাঁদ ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সংযুক্ত আরব আমিরাত সময় বিকেল ৪টা ১ মিনিটে জন্ম নেবে। তবে সেদিন সূর্যাস্তের মাত্র ১ মিনিট পর চাঁদ ডুবে যাবে। ওই সময় চাঁদের বয়স হবে মাত্র ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট। ফলে খালি চোখে চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব হবে।

পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সূর্যাস্তের পর আরব আমিরাতে চাঁদটি স্পষ্ট দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হতে পারে পবিত্র রমজানের প্রথম দিন। মাসটি ২৯ দিনে পূর্ণ হলে আগামী ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) হতে পারে শেষ রোজা এবং ২০ মার্চ (শুক্রবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর।

আবুধাবিতে রমজানের শুরুতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট। তবে সাহ্‌রি থেকে ইফতার পর্যন্ত রোজার সময় হবে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট। মাসের শেষ দিকে দিনের দৈর্ঘ্য বেড়ে ১২ ঘণ্টা ১২ মিনিট ও রোজার সময় বেড়ে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিটে দাঁড়াতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণেও সাহ্‌রি ও ইফতারের সময়ে পার্থক্য হবে। খোরফাক্কান ও পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় আবুধাবির চেয়ে প্রায় ৮ মিনিট আগে সাহ্‌রি ও ইফতার হবে। অন্যদিকে আল সিলা ও আল ঘুওয়াইফাত এলাকার মানুষ রাজধানীর চেয়ে প্রায় ১২ মিনিট দেরিতে ইফতার করবেন। ফলে পুরো দেশে সাহ্‌রি ও ইফতারে সময়ের পার্থক্য সর্বোচ্চ ২০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।