- রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

| ফাল্গুন ১৩ ১৪৩০ -

Tokyo Bangla News || টোকিও বাংলা নিউজ

চার নেতার নাম স্মরণ করছি রক্তক্ষরণের মাধ্যমেঃ পি আর প্ল্যাসিড

ষ্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০২:২৫, ৪ নভেম্বর ২০২১

চার নেতার নাম স্মরণ করছি রক্তক্ষরণের মাধ্যমেঃ পি আর প্ল্যাসিড

জাপানে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম পত্রিকার সম্পাদক পি আর প্লাসিড। যিনি একাধারে সাংবাদিক ও লেখক। ইতিমধ্যেই তার লেখা প্রায় ৩০ টি বই প্রকাশিত হয়েছে। আজ টোকিও বাংলা নিউজ তার একটি ফেইসবুক ষ্ট্যাটাস পাঠকদের জন্য তুলে ধরলোঃ  

 

আমি প্রায়ই একটা কথা বলি,

আমি কোনো রাজনীতি করি না,

আওয়ামী লীগ করা তো দূরের কথা।

তার মানে এই নয় যে, আমি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক বা দল করি, তা-ও না।

তবে পাকিস্তান থেকে আমাদের দেশ স্বাধীন করার প্রাক্কালে যাদের ভূমিকা বা নেতৃত্ব ছিলো অনেক, যা পরিমাপের কোনো মানদন্ড নেই, তাদের সমর্থন করবো না বা তাদের কথা প্রকাশ্যে বলবো না, তা-ও নয়। তারা আমাদের একটি স্বাধীন ভূ-খন্ড দিয়েছেন। দিয়েছেন একটি লাল সবুজের পতাকা। সবচেয়ে বড় সত্য, আজ আমি যে ভাষায় কথা বলি, যে ভাষায় সাহিত্য চর্চা করি, সেটার প্রতিষ্ঠা পেতে যা যা করার, সব করেছেন তারা। তাই তাদের সকলের প্রতি প্রথমেই আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট রাজনীতির পট পরিবর্তনের পরবর্তী ঘটনার সাথে গা ভাসিয়ে দেবো নিজেকে মিথ্যা বিলাসিতায় প্রতিষ্ঠা করতে, এমন মানুষ অন্তত আমি নই।

আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি, যে কারণে সব সময় তাঁর কথা বলি। আমার অনেক লেখাতে বঙ্গবন্ধুর কথা উঠে এসেছে। তাঁকে নিয়ে আমি টেলিফিল্ম করেছি। আরো স্ক্রিপ্ট করে রেখেছি, ফিল্ম নির্মাণের অপেক্ষায়। এখানে আমি যে বিষয়টি বলতে চাইছি সেটা হলো, দোষ গুণ মিলেই একজন মানুষ। তিনিও তার বাইরে নন। তাই দোষ গুলোর সাথে কমপেয়ার করলে বঙ্গবন্ধুকে অবশ্যই সম্মান করার মতো মনে হয় আমার কাছে যা অন্যদের বেলায় অনুপস্থিত।

বর্তমান প্রজন্মের যারা তাঁর সমালোচনা করছে তারা কতোটা তাঁর সম্পর্কে জেনে করছে, তা আমার জানা নেই। একারণেই আমি মাঝে মধ্যে বলি, যারাই বঙ্গবন্ধুর কোন কাজের বা ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা করছে তারা যেন তার সম্পর্কে আগে অন্তত পড়াশোনা করে কিছুটা হলেও জেনে তারপর করে। না জেনে সমালোচনা মোটেও ঠিক নয়। সেটা হবে গায়ের জোরের ঠ্যালা। তা না হলে যে তা করাটা হয়ে যাবে একেবারেই নিজের সাথে নিজের প্রতারণার সামিল।

কোনো কিছুরই জানার শেষ নেই। তাই বলি, যারা ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট সম্পর্কে সত্য ইতিহাস জানে না তারা যেন অন্তত সত্য ইতিহাস জেনে তারপর কথা বলে বা রাজনীতির মাঠে আসে। সেদিনের সেই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরবর্তীতে যা ঘটেছে এবং এখন পর্যন্ত যা ঘটছে বিরোধী শিবিরের রাজনীতির অঙ্গনে তা একেবারেই পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক এক চক্রান্ত। যা এখন একেবারেই দিনের আলোর মতো স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে।

আমাদের জাতীয় চার নেতা সেদিন সেই আততায়ীদের সাথে হাত মেলান নি। তাদের টোপ গিলেন নি, এজন্যই তাদের কপালে নেমে এসেছিলো এমন এক নির্মম পরিহাস। তারা ক্ষমতার লোভে কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন নি, যে কারণে গ্রেফতার করে জেলখানায় বন্দী করা হয়। এবং পরবর্তীতে ৩ নভেম্বর তাদের জেলখানায় বন্দী অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়ে। আমার জানা মতে তাদের কোন অন্যায় ছিলো না। খুনিদের দৃষ্টিতে অন্যায় ছিলো একটিই, আর সেটি ছিল তাদের অন্যায় কাজে সম্মতি দেননি। আর বাইরে আর কি ছিলো তাদের অপরাধ? এখানে আমার লেখার সাথে যে ছবিটি দেয়া হয়েছে এই ছবি পোষ্ট করতে আওয়ামী লীগ করার প্রয়োজন হয় না। এটি একান্তই ব্যক্তি স্বাধীনতা আর কারো নিজের বিবেকের কাছে নিরপরাধ লোকদের অন্যায়ভাবে হত্যা করার প্রতিবাদে সামান্য সামিল হওয়ার মতো সৎ সাহস থাকলেই সম্ভব হয়। এমনকি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থন করতেও আমি বারণ করছি না। বলছি শুধু এই ছবির লোকগুলো সম্পর্কে জানুন। তবেই বলুন, আপনার যা খুশি বলার, তা। দেখবেন আপনার জীবদ্দশায় আপনার আত্মা শান্তি পাবে।

আপনি যে রাজনীতির আদর্শেই বিশ্বাসী হোন না কেনো কিছু কিছু বিষয়ে নিজেকে উদার করতে না পারলে কোনো কিছুতেই সফল হবেন না। এমনকি আপনার আমিত্বেও থাকবে না স্বচ্ছতা। সেটা করতে পারলে আপনার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে নতুন এক জাগরণ তৈরি হবে।

হতে পারে বঙ্গবন্ধু মানুষ হিসেবে খারাপ ছিলেন। ছিলেন এডমিনিষ্ট্রেটর হিসেবে ব্যর্থ নায়ক। তাই বলে তার নাম নিতে আপনার মুখে ফোড়ার ব্যথা অনুভব করবেন কেনো? সকলেরই জানা রয়েছে যে, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সেদিন তার শিশু পুত্র রাসেলের কি অপরাধ ছিলো যে তাঁকে হত্যা করতে হয়েছিল বাবার দোষের জন্য? তাও না হয় বুঝলাম, এক পরিবারের বলে তাদের ভয় ছিল, বাঁচিয়ে রাখলে তাদের পথের কাঁটা হবে তাই হত্যা করেছে।

কিন্তু পরবর্তীতে জেলের ভিতর জাতীয় এই চার নেতাকে কেনো নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল? কি ছিলো তাদের অপরাধ? আপনিই বলুন। আপনি কি একবার ভেবে দেখেছেন,. কি নিষ্ঠুর জাতি আমরা? কত ঘৃণিত আর অকৃতজ্ঞ মানুষ আমরা যে, যারা আমাদের জন্য এতো কিছু করলেন, তাদের হত্যা করেছি সেদিন নির্মম ভাবে? সে না হয় গেলো। হত্যাকারীদরকেও আবার সমর্থন করি নির্লজ্জভাবে?

জেল হত্যা দিবস (৩ নভেম্বর) গেলো। যারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছিলো তাদের আমি আজকের এই দিবসে স্মরণ করেছি অত্যন্ত ঘৃণার সাথে। চার নেতার নাম স্মরণ করছি রক্তক্ষরণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা সহ। আমাদের এই বীর চার নেতা হচ্ছেন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান।