- রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

| ফাল্গুন ১৩ ১৪৩০ -

Tokyo Bangla News || টোকিও বাংলা নিউজ

দেশদ্রোহিতা হল না তো?

টিবিএন রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৫:২২, ১৫ নভেম্বর ২০২১

দেশদ্রোহিতা হল না তো?

ভারত উপমহাদেশের দেশগুলোতে রাজনীতির এক নোংরা খেলা অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এই তিন দেশের রাজনীতির যে খেলা চলে তার সাদৃশ্য অনেকাংশেই এক। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারত-পাকিস্তান অন্যদিকে ভারতের ক্ষেত্রে পাকিস্তান আর চীন ইস্যু দেশগুলোর রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত। কিন্তু তাই বলে কি থেমে আছে আলোচনা-সমালোচনা। আলোকপাতকৃত এমন বিষয়বস্তুকে নিয়ে লেখা দিপক রয়'র এই ফেইসবুক ষ্ট্যাটাস টোকিও বাংলা নিউজ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোঃ 
 

পদ্মশ্রী পাওয়া ওই মহিলা আমার দেশ সম্পর্কে আজেবাজে কুকথা যতই বলুক, সেটা দেশদ্রোহিতা হবে না। আমার মত পাব্লিক একটু বেগোড়বাই করলেই আবার সেটা দেশদ্রোহিতা হয়ে যাবে। সেই কারণে সবসময়ই একটু হিসেব করে পোস্ট করতে হয়! 
সত্যিই কি আমাদের প্রিয় দেশ ভারতের অবস্থা খুব ভাল? এই নিয়ে কিছু বললেই কিছু চাড্ডি বলবে- চীনে চলে যা! ফলে চীন নিয়ে কিছু বলব না। আসুন, আরেকটি দেশ জাপানের কথা বলি। সমুদ্রের মাঝখানে একচিলতে ছোট্ট দেশটা আয়তনে ৩,৭৭,৯৪৪ বর্গকিলোমিটার। মানে ওই ধরুন রাজস্থানের মত আয়তন আরকি! ভারতের মধ্যে অমন জাপান সাড়ে আটখানা ঢুকে যাবে! জনসংখ্যাও স্বাভাবিকভাবেই ভারতের দশ ভাগের এক ভাগেরও কম। আর জাপানের সংবিধানের বয়সও ভারতের মতই প্রায় সমান। 
জাপানকেও ভারতের মতই হাজার বছর বিদেশী শাসকের প্রভাবে থাকতে হয়েছিল। বহু যুদ্ধবিগ্রহ, সম্পদ লুন্ঠনের স্বীকার জাপানও হয়েছিল। শতাব্দীর ভয়ংকরতম বিধ্বংসী হিরোসিমা-নাগাসাকির ঘটনাও ঘটেছিল সেই জাপানেই। তার পরেও জাপান কেন এত বদলে গেল? কিভাবে বদলালো? আমার দেশ ভারত আজ কোথায়? প্রশ্নগুলো করা কি সত্যিই দেশদ্রোহিতা?
জাপানীরা সবাই স্বর্গসুখে আছে, ওখানে অবিচার নেই, সমস্যা নেই- এটা বলছি না। তুলনা করতে চাইছি আমার দেশ ভারতের সাথে। আমরা কেন ওদের থেকে অনেক পিছিয়ে? কেন কেন এবং কেন?
জাপানের বন্ধু লেখক সাংবাদিক পি আর প্ল্যাসিড এসেছিলেন আমার বাড়িতে। দু'দিন তাকে নিয়ে ঘুরেছিলাম নদীয়া টু কলকাতা। জাপানের ধর্ম, সংস্কৃতি থেকে প্রযুক্তি, শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি ইত্যাদি নানা বিষয়ে গল্প করার সূযোগ হয়েছিল। এতটুকু বাড়িয়ে বলছি না- চর্মচক্ষে জাপানকে কাছে থেকে দেখার ইচ্ছে তৈরি হয়েছিল। 
জাপান যখন অসাধারণ সব নতুন নতুন আবিস্কার সারা দুনিয়ার মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে, আমরা তখন রামমন্দির, গোরুর মাংস, লাভ জিহাদ নিয়ে পড়ে আছি। ওরা যখন চমকে দেওয়া ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল পন্য আবিস্কার করছে, আমরা তখন সাংসদ বিধায়ক কেনাবেচা আর রাজনৈতিক খুনোখুনি নিয়ে মেতে আছি। 
এটা ভাববেন না- কেন জাপানিরা আমাদের দেশে মুজুর খাটতে আসে না? আমাদের দেশ থেকে কেন জাপানে মুজুর খাটতে যায়? নিশ্চয়ই তারা আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে বলেই যায়! পি আর প্ল্যাসিড বলছিলেন- উনি খ্রিস্টান পরিবারে জন্মেছেন, আর ওনার স্ত্রী বৌদ্ধ পরিবারে! আপনার ছেলেটি কোন ধর্মের? হেসে বললেন- ওটা গুরুত্বপূর্ণ নয়! উনি অবাকই হয়েছিলেন শুনে যে, ভারতের মত দেশে পার্লামেন্টের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু ছিল ধর্ম, একথা শুনে।
আসলে আমরা স্বাধীনতার সাত দশক পরেও উন্নত হবার মানসিকতা অর্জন করতে পারিনি। জাপানিরা কিন্তু তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ধরে রেখেছে, আর তার সাথে বিজ্ঞানের আবিস্কারকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। আর আমরা রামদেবের মত আপদগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ফলে আমরা জাপানের মোবাইল কিনে ফেসবুকে রামদেবের বুজরুকির পোস্ট করব। সেটাই স্বাভাবিক।

আর এ/আর এ এস