- শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪

| বৈশাখ ৬ ১৪৩১ -

Tokyo Bangla News || টোকিও বাংলা নিউজ

বাংলাদেশে অধিকারের সম্পাদকসহ দুইজনকে কারাদন্ড : মুক্তি দাবি অ্যামনেষ্টির

টিবিএন বাংলাদেশ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২:১১, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বাংলাদেশে অধিকারের সম্পাদকসহ দুইজনকে কারাদন্ড : মুক্তি দাবি অ্যামনেষ্টির

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র ও সংগঠনটির পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানের ২ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত এ রায় ঘোষণা করেন। এটা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের প্রথম মামলা। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম। অপরদিকে আদিলুরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রুহুল আমিন ভূঁইয়া।
এদিকে মামলার রায় পর্যবেক্ষণ করতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম উপস্থিত ছিল। উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দও। তবে এ রায়ের পরই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল থেকে অধিকারের সম্পাদক ও পরিচালককে মুক্তি দেবার আহ্বান জানায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অফিসের এক্স একাউন্ট থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি পোস্ট দেয়া হয়। তাতেই বাংলাদেশের আইসিটি আইনের সমালোচনা করে অধিকারের দুই সদস্যের মুক্তি দাবি করে অ্যামনেস্টি।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে ৫ই মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলাম সমাবেশ করে। পরে সমাবেশস্থলে রাত্রিযাপনের ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা। তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিতে যৌথ অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই অভিযানে ৬১ জন নিহত হয় বলে দাবি করেছিল অধিকার।

তবে, সরকারের ভাষ্য সেই রাতের অভিযানে কেউ মারা যায়নি। শাপলা চত্বরে অভিযানের পর ২০১৩ সালের ১০ই আগস্ট গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন ডিবির তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম।
তদন্ত শেষে ওই বছরের ৪ঠা সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে আদিলুর ও এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। এতে ৩২ জনকে সাক্ষী করা হয়।
ওই বছরের ১১ই সেপ্টেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য অভিযোগ আমলে নেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল। এরপর ২০১৪ সালে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি আদিলুর ও এলান ৬১ জনের মৃত্যুর ‘বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা’ তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি ও প্রচার করে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অপচেষ্টা চালায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকার ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি দেশে-বিদেশে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে।’
‘পাশাপাশি তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি করে, যা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ (১) ও (২) ধারায় অপরাধ। একইভাবে ওই আসামিরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চালায় এবং সরকারকে অন্য রাষ্ট্রের কাছে হেয় করার চেষ্টা চালায়, যা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৫ সি ও ডি এবং ৫০৫ এ ধারায় অপরাধ।’

এর আগে গত ৭ই সেপ্টেম্বর রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়ার অভিযানে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে অধিকারের সম্পাদক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়ের হওয়া মামলার রায় হয়নি। সেদিন ১৪ই সেপ্টেম্বর রায়ের জন্য  নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

সেদিন এডভোকেট রুহুল আমিন ভূইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আশা করি রায়ে দুই জনই বেকসুর খালাস পাবেন। কারণ আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি মামলায় তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। রাষ্ট্রপক্ষও অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হননি।
আদিলুর রহমান খান পেশায় সর্বোচ্চ আদালতের আপিলেট ডিভিশনের আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি বামপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। আর পরিচালক নাসির উদ্দীন এলান অধিকারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত ছিলেন।

আরএএস